স্বয়ংক্রিয় যন্ত্রে হতে চলেছে প্রতিমার বিসর্জন, উদ্বোধনের পরিকল্পনা চলতি বছরেই

মাঝের সেপ্টেম্বর মাস কাটলেই দুর্গাপুজো শুরু হয়ে যাবে। ইতিমধ্যেই শহর থেকে জেলা সর্বত্রই আইনশৃঙ্খলা এবং যানজট নিয়ে পরিকল্পনা শুরু করে দিয়েছে পুলিশ প্রশাসন। কিন্তু দুর্গাপুজো শেষ হলেই তো করতে হবে প্রতিমা নিরঞ্জন। এই কাজ করতে গিয়ে অনেক সময় দুর্ঘটনা ঘটে। গঙ্গার জল দূষিত হয়। এমনকী মানুষের বিশৃঙ্খলায় ক্ষতি হয়। এই পরিবেশ কাটিয়ে উঠতে এবার প্রায় এক কোটি টাকা খরচ করে বিসর্জন দেওয়ার স্বয়ংক্রিয় পরিকাঠামো গড়ছে হুগলির কোন্নগর পুরসভা। আর তার দেখাদেখি একই পথে হাঁটার কথা ভাবতে শুরু করেছে কলকাতা পুরসভা।

বিষয়টি ঠিক কী ঘটেছে?‌ কোন্নগরের গঙ্গার ঘাটে প্রতিমা বিসর্জনের সেই স্বয়ংক্রিয় পরিকাঠামো নির্মাণের কাজ শেষ হতে চলেছে। কোন্নগর পুরসভা সূত্রে খবর, এই বছরই স্বয়ংক্রিয় বিসর্জন ব্যবস্থার সুবিধা পাবেন প্রত্যেকটি পুজো উদ্যোক্তারা। এই পরিষেবার জেরে বিশৃঙ্খলা এবং দুর্ঘটনা এড়ানো যাবে। তবে একইসঙ্গে আগে চালু হওয়া কৃত্রিম পুকুরে প্রতিমা গলিয়ে দেওয়ার ব্যবস্থাও চালু থাকবে। ওই নয়া স্বয়ংক্রিয় যন্ত্র ফোল্ডিং এবং সেমি অটোম্যাটিক। যা প্রয়োজনের সময় ব্যবহার করা হবে এবং আর প্রয়োজন না পড়লে তুলেও রাখা যাবে।

ঠিক কী বলছে পুরসভা?‌ এই পরিকাঠামো এবং স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থার কথা আগে অনেকে ভাবতে পারেননি। তবে এটা হলে যে মানুষের জীবন দুর্ঘটনা থেকে বেঁচে যাবে সেটা বলাই যায়। তাই কোন্নগর পুরসভার চেয়ারম্যান স্বপন দাস বলেন, ‘বিসর্জনকে কেন্দ্র করে বিশৃঙ্খলা হয়েই থাকে। প্রতিমা ভাসানোর সময়টি খুবই উদ্বেগজনক। দুর্ঘটনা ঘটার সম্ভাবনা থাকে। এসব এড়াতেই আমরা প্রায় স্বয়ংক্রিয় মেশিনের মাধ্যমে গঙ্গায় প্রতিমা নিরঞ্জনের ব্যবস্থা করেছি। এতে এক কোটি আট লক্ষ টাকা খরচ হয়েছে। মাত্র দু’জন কর্মীর উপস্থিতিতেই গঙ্গায় প্রতিমা নিরঞ্জন করা যাবে। এবারের দুর্গাপুজোতেই এই নয়া ব্যবস্থার উদ্বোধন সম্ভব বলে আশা করছি। পুজো উদ্যোক্তা থেকে আমজনতাও নিরাপদে থাকবেন।’

আরও পড়ুন:‌ জোর ধাক্কা খেলেন শুভেন্দু অধিকারী, খেজুরির পঞ্চায়েত সমিতি দখল করল তৃণমূল

আর কী জানা যাচ্ছে?‌ এই ঘটনার কথা জানতে পেরে কলকাতা পুরসভাও স্বয়ংক্রিয় যন্ত্রের মাধ্যমে বিসর্জনের কথা ভাবতে শুরু করেছে। তবে সেটা এই বছরই হবে কিনা সেটা এখনও চূড়ান্ত হয়নি। কারণ কলকাতা পুরসভা এবার বিষয়টি দেখে নিতে চাইছে। তারপর তা চালু করতে পারে বলে সূত্রের খবর। যেহেতু এখন গঙ্গা আরতি হয় তাই সেখানের পরিবেশ ঠিক রাখতেই এমন যন্ত্রে প্রতিমা নিরঞ্জনের কথা ভাবছে কলকাতা পুরসভা। জলে নামার সময় পা হড়কে যাওয়া, জলে তলিয়ে যাওয়া, কাঠামোর নীচে চাপা পড়ার ঘটনা এড়াতে এই স্বয়ংক্রিয় যন্ত্রের ব্যবস্থা করেছে কোন্নগর পুরসভা। এখন দেখার বিষয়টি কেমন হয়।